Karika 2
অনুবাদ
যে তত্ত্বে এই সমস্ত কার্য বা জগৎ অবস্থান করছে এবং যার থেকে এগুলি নির্গত হয়েছে, সেই তত্ত্বের স্বরূপ কখনোই আবৃত বা ঢাকা থাকে না; তাই কোনো স্থানেই এর নিরোধ বা বাধা সম্ভব নয়।
অর্থ
এই কারিকাটি স্পন্দতত্ত্বের মূল ভিত্তিটি স্থাপন করছে। এখানে বলা হয়েছে যে, এই বিশ্বজগৎ বা সমস্ত কার্যকলাপ যে চৈতন্যশক্তির মধ্যে বিদ্যমান এবং যার থেকেই তা প্রকাশিত হয়েছে, সেই চৈতন্য কখনোই নিজের প্রকৃত স্বরূপ হারায় না। সাধারণ মানুষের ধারণা যে অজ্ঞানতা বা মায়া চৈতন্যকে ঢেকে ফেলে, কিন্তু স্পন্দদর্শন অনুযায়ী, চৈতন্যের স্বভাবই হলো স্বপ্রকাশ। যেমন সূর্য মেঘে ঢাকা পড়লেও তার আলো নষ্ট হয় না, তেমনি জগতের বিচিত্র রূপের আড়ালেও শিবতত্ত্ব বা স্পন্দশক্তি সর্বদা উন্মুক্ত ও প্রকাশমান থাকেন।
যেহেতু এই তত্ত্ব কখনোই প্রকৃতপক্ষে আবৃত হয় না, তাই এর গতিশীলতায় কোনো প্রকার নিরোধ বা বাধা দেওয়া অসম্ভব। জীব যখন মনে করে সে সীমাবদ্ধ বা আটকা পড়েছে, তখন সে কেবল নিজের ভুল ধারণার শিকার হয়, বাস্তবে চৈতন্যশক্তি সর্বত্র এবং সর্বক্ষণ মুক্তভাবে স্পন্দিত হচ্ছে। কোনো স্থান, কাল বা অবস্থা এমন নেই যেখানে এই দিব্য কম্পন বা স্পন্দন থামিয়ে রাখা যায়। এই উপলব্ধিই মুক্তির চাবিকাঠি যে, বাধা কেবল আমাদের দৃষ্টিভঙ্গিতে, বাস্তবে নয়।
ধ্যান
দিনের বেলায় যখনই কোনো বাধা, বিঘ্ন বা মানসিক আটক অনুভব করবেন, তখনই থামুন এবং মনে মনে বলুন, 'এই বাধা কেবল আমার চিন্তার সৃষ্টি, কিন্তু যে শক্তি থেকে আমি এসেছি এবং যার মধ্যে আমি আছি, তিনি সর্বদা মুক্ত এবং অবাধ।' এই অনুভূতির সাথে সাথে শরীরের কোনো এক বিন্দুতে, হয়তো হৃদয়ে বা কপালে, একটি সূক্ষ্ম কম্পন বা স্পন্দন কল্পনা করুন যা কোনো দেয়াল মানছে না এবং অনন্তে ছড়িয়ে পড়ছে। এই স্পন্দনের সাথে নিজেকে এক করে নিন এবং জানুন যে আপনি সেই অবাধ শক্তিরই অংশ।
A contemplative reading in the spirit of the Kashmir Shaivism (Spanda — the doctrine of vibration) tradition — an aid to reflection, not a substitute for a living teacher or the classical commentaries.