Sutra 1.13
অনুবাদ
ইচ্ছাই হলেন শক্তি, যিনি কুমারী (নিত্য নবীন ও স্বতন্ত্র)।
অর্থ
এই সূত্রটি ঘোষণা করছে যে, পরম শিবের অন্তর্নিহিত ইচ্ছাশক্তি (ইচ্ছা শক্তি) হলেন দেবী উমা, যিনি চিরকুমারী বা সদা নবীন। এখানে 'কুমারী' শব্দটি কেবল বয়সের দিক নির্দেশ করে না, বরং এটি সেই শক্তির স্বভাবকে বোঝায় যা কোনো বাহ্যিক বস্তুর ওপর নির্ভরশীল নয় এবং কোনো পুরনো সংস্কার বা কার্মিক প্রবণতা দ্বারা সীমাবদ্ধ নয়। তিনি সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র, নিরন্তর নতুন এবং সৃষ্টির প্রতি মুহূর্তে অভিনব রূপে প্রকাশিত হতে সক্ষম। যখন সাধক বুঝতে পারেন যে তাঁর নিজস্ব ইচ্ছা প্রকৃতপক্ষে এই দিব্য শক্তিরই একটি প্রবাহ, তখন ইচ্ছা আর ব্যক্তিগত欲望 বা ক্ষুদ্র কামনায় পরিণত হয় না।
কাশ্মীর শৈবমতে, ইচ্ছা শক্তি হলো সৃষ্টির প্রথম স্ফুরণ, যা জ্ঞান ও ক্রিয়া শক্তির উৎস। যখন এই ইচ্ছা শুদ্ধ অবস্থায় থাকে, তখন তা 'কুমারী' রূপে বিরাজমান থাকে—অর্থাৎ তা অদ্বৈত চেতনার সাথে একীভূত এবং কোনো দ্বৈতবাদী বিভাজন দ্বারা কলঙ্কিত হয়নি। সাধারণ মানুষের ইচ্ছা বাসনা ও অভাববোধ থেকে জন্মায়, কিন্তু শাম্ভব উপায়ের সাধকের ইচ্ছা সরাসরি শিবসত্তা থেকে উদ্গিরিত হয়। এই ইচ্ছাই হলো বিশ্বচক্রের নিয়ন্ত্রক শক্তি, যিনি নিজে কখনও বৃদ্ধা হন না বা ক্ষয়প্রাপ্ত হন না, কারণ তিনি সময়ের ঊর্ধ্বে অবস্থান করেন।
ধ্যান
দিনের বেলায় যখনই কোনো কাজ শুরু করার ইচ্ছা জাগবে বা কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার মুহূর্ত আসবে, তখন এক মুহূর্ত থামুন। মনে মনে প্রশ্ন করুন: 'এই ইচ্ছা কি আমার ক্ষুদ্র অভ্যাস বা ভয়ের জন্ম, নাকি এটি অন্তরের গভীর থেকে উঠে আসা একটি স্বতঃস্ফূর্ত ও নবীন প্রবাহ?' নিজেকে সেই সংকীর্ণ 'আমি'-ভাব থেকে সরিয়ে এনে অনুভব করুন যে এই ইচ্ছাশক্তি আপনার ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়, বরং এটি মহাজাগতিক কুমারী শক্তিরই একটি খেলা। এই অনুভূতির সাথে কাজটি সম্পাদন করুন, যেন প্রতিটি পদক্ষেপে একটি নতুন সৃষ্টি ঘটছে, পুরনো কোনো ভার বহন করছে না।
A contemplative reading in the spirit of the Kashmir Shaivism (Trika / non-dual Tantra) tradition — an aid to reflection, not a substitute for a living teacher or the classical commentaries.