Sutra 1.8
অনুবাদ
জ্ঞানই হলো জাগ্রৎ অবস্থা।
অর্থ
এই সূত্রটি সাধারণ দৈনন্দিন জাগ্রৎ অবস্থাকে পুনঃসংজ্ঞায়িত করছে। সাধারণত আমরা মনে করি জাগ্রৎ অবস্থা মানে হলো ইন্দ্রিয়গুলোর মাধ্যমে বাহ্যিক জগতের বস্তুগুলোর সাথে যোগাযোগ করা, যেখানে 'আমি' এবং 'অন্য' এর মধ্যে একটি স্পষ্ট বিভাজন বিদ্যমান। কিন্তু কাশ্মীর শৈবতন্ত্রের শাম্ভব উপায় অনুযায়ী, প্রকৃত জাগ্রৎ অবস্থা হলো সেই পরম চেতনা বা শিবসত্তার স্বপ্রকাশ। যখন কোনো ব্যক্তি এই লৌকিক দ্বৈতবোধের ঊর্ধ্বে উঠে শুদ্ধ চৈতন্যস্বরূপকেই একমাত্র বাস্তবতা হিসেবে উপলব্ধি করেন, তখনই তিনি প্রকৃতপক্ষে 'জাগ্রৎ' হন।
অজ্ঞান বা মায়া হলো সেই ঘুম যেখানে আমরা নিজেকে সীমিত দেহ-মন মনে করি এবং বিশ্বকে নিজ থেকে পৃথক ভাবি। 'জ্ঞানং জাগ্রৎ' বলতে বোঝানো হয়েছে যে, যতক্ষণ না পর্যন্ত এই দ্বৈতবোধমূলক ঘুম ভাঙে এবং অন্তরে অন্তরে অদ্বৈত শিবতত্ত্বের সাক্ষাৎকার ঘটে, ততক্ষণ মানুষ প্রকৃত অর্থে জেগে আছে বলে গণ্য হয় না। এই জ্ঞান কোনো বুদ্ধিবৃত্তিক তথ্য নয়, বরং এটি হলো স্বীয় স্বরূপের সরাসরি এবং তাৎক্ষণিক অনুভূতি, যা সবকিছুর মধ্যে একই চৈতন্যস্পন্দন দেখতে পায়।
ধ্যান
দিনের বেলা যখনই কোনো কাজ করবেন বা কারো সাথে কথা বলবেন, মাঝে মাঝে হঠাৎ করে থামুন এবং নিজেকে জিজ্ঞাসা করুন: 'এই মুহূর্তে যে দেখছে বা জানছে, সে কি কেবল এই শরীর ও মন, নাকি তার পিছনে থাকা সেই অসীম আলো?' বাহ্যিক বস্তুর দিকে তাকানোর বদলে, সেই 'দর্শকের' দিকে ফিরে তাকানোর চেষ্টা করুন। অনুভব করুন যে, আপনার চারপাশের সবকিছু—শব্দ, স্পর্শ, চিন্তা—সবই সেই একই চৈতন্যসাগরে ভাসছে। এই স্বল্পক্ষণের প্রত্যাবর্তনই হলো প্রকৃত জাগরণের অভ্যাস।
A contemplative reading in the spirit of the Kashmir Shaivism (Trika / non-dual Tantra) tradition — an aid to reflection, not a substitute for a living teacher or the classical commentaries.