Sutra 3.17
অনুবাদ
(জ্ঞানী যোগী) স্বীয় মাত্রা বা নিজস্ব চৈতন্য-শক্তি দ্বারা (বিশ্বের) নির্মাণ সম্পাদন করেন।
অর্থ
এই সূত্রটি তৃতীয় উপায় বা আণবোপায়ের গভীরতম রহস্য উন্মোচন করে, যেখানে সাধক বুঝতে পারেন যে বাহ্যিক জগৎ কোনো পৃথক বস্তু নয়, বরং তাঁর নিজের চৈতন্যেরই বিস্তার। 'স্ব মাত্রা' বলতে বোঝানো হয়েছে শিবের সেই অন্তর্নিহিত শক্তি বা কম্পন, যা থেকে নাম ও রূপের সৃষ্টি হয়। সাধারণ মানুষ যখন অজ্ঞানতার বশবর্তী হয়ে জগৎকে নিজের থেকে আলাদা মনে করে, তখন সে বদ্ধ হয়; কিন্তু যিনি এই সূত্রের মর্মার্থ আয়ত্ত করেছেন, তিনি জানেন যে এই মহাবিশ্ব তাঁর নিজস্ব চৈতন্য-শক্তিরই এক খেলার মতো প্রকাশ।
এখানে 'নির্মাণ' শব্দটি কেবল ভৌত সৃষ্টিকে বোঝায় না, বরং এটি নির্দেশ করে কীভাবে চৈতন্য নিজেকে সীমিত করে বিভিন্ন রূপ ধারণ করে। কাশ্মীর শৈবমতে, স্রষ্টা ও সৃষ্টির মধ্যে কোনো দ্বৈত নেই; স্রষ্টাই নিজের ইচ্ছাশক্তি বা মাত্রা দিয়ে নিজেকে নানা আকারে প্রকাশ করছেন। তাই এই সূত্রের মাধ্যমে বলা হচ্ছে যে, যোগী যখন এই সত্যটি উপলব্ধি করেন যে সমস্ত কিছু তাঁর নিজস্ব শক্তিরই রূপান্তর, তখন তিনি আর ভোগ্য বস্তুর দাস থাকেন না, বরং তিনি সেই সৃষ্টিকর্তা শিবের আসনে অধিষ্ঠিত হন।
ধ্যান
দিনের বেলা যখনই কোনো তীব্র আবেগ বা বাহ্যিক ঘটনা আপনার মনকে আলোড়িত করবে, তখন ক্ষণিকের জন্য থামুন এবং নিজেকে জিজ্ঞাসা করুন: 'এই অনুভূতিটি বা এই দৃশ্যটি কি আমার বাইরে থেকে আসছে, নাকি এটি আমার নিজের চৈতন্য-শক্তিরই একটি ঢেউ?' এই প্রশ্নটি মনে এনে দেখুন কীভাবে সমস্ত কিছু আপনার ভিতর থেকেই উথলে উঠছে এবং আবার সেখানেই লীন হচ্ছে, যেন সমুদ্রের জল থেকেই তরঙ্গের জন্ম হয়। এই দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রেখে কাজ করুন, যাতে প্রতিটি মুহূর্তে আপনি স্রষ্টা ও সৃষ্টির একত্ব অনুভব করতে পারেন।
A contemplative reading in the spirit of the Kashmir Shaivism (Trika / non-dual Tantra) tradition — an aid to reflection, not a substitute for a living teacher or the classical commentaries.