Sutra 3.19
অনুবাদ
ক-বর্গাদি বর্ণসমূহে মহেশ্বরাদি দেবতারা পশুর (জীবের) মাতৃস্বরূপ।
অর্থ
এই সূত্রটি ভাষার গভীরতম রহস্য ও চেতনার সৃজনশীল শক্তির মধ্যে সম্পর্ক উন্মোচন করে। সংস্কৃত বর্ণমালার প্রতিটি বর্গ বা গোষ্ঠী (যেমন ক-বর্গ, চ-বর্গ) কেবল ধ্বনিগত চিহ্ন নয়; এগুলি মহেশ্বর, ব্রহ্মা, বিষ্ণু, রুদ্র এবং ঈশ্বরের মতো উচ্চতর দিব্য শক্তির প্রকাশভূমি। কাশ্মীর শৈবমতে, এই দেবতারা বাইরের কোনো পৃথক সত্তা নন, তারা স্বয়ং শিবের বিভিন্ন স্পন্দন বা কম্পন। যখন এই শক্তিগুলো বর্ণের আকারে প্রকাশিত হয়, তখন তারা জীবাত্মা বা পশুর জন্য 'মাতা' বা জননী হয়ে ওঠেন। অর্থাৎ, আমাদের চিন্তা, কথা এবং অভিজ্ঞতার জগৎ এই দিব্য মাতৃশক্তিদের গর্ভ থেকেই জন্মলাভ করে।
জীব বা পশু যখন অজ্ঞানতাবশত নিজেকে এই বর্ণ ও শব্দের প্রবাহ থেকে বিচ্ছিন্ন মনে করে, তখন সে সীমাবদ্ধ থাকে। কিন্তু এই সূত্রটি ইঙ্গিত করে যে, যে শক্তিগুলো আমাদের চিন্তা ও ভাষাকে চালিত করছে, তারা প্রকৃতপক্ষে আমাদের নিজস্ব দিব্য স্বরূপেরই অংশ। 'মাতা' শব্দটি এখানে কেবল সৃষ্টির উৎস নয়, বরং পালনকারী ও রক্ষাকারী শক্তিকেও বোঝায়। আমাদের প্রতিটি উচ্চারিত শব্দ এবং অন্তরের প্রতিটি স্পন্দনে এই মহেশ্বরাদি শক্তিগুলোই কাজ করছেন। তাই ভাষা কেবল যোগাযোগের মাধ্যম নয়, এটি শিবের সাথে পুনর্মিলনের একটি পবিত্র সেতু, যেখানে স্রষ্টা ও সৃষ্টির মধ্যে কোনো প্রকৃত বিভাজন নেই।
চিন্তন
আজ সারাদিন যখনই আপনি কথা বলবেন বা মনে মনে কোনো চিন্তা করবেন, তখন একটি ক্ষণিকের জন্য থামুন এবং লক্ষ্য করুন যে এই শব্দ বা চিন্তাটি কোথা থেকে উদ্ভূত হচ্ছে। নিজেকে কেবল কথা বলাকারী হিসেবে না ভেবে, অনুভব করার চেষ্টা করুন যে আপনার ভিতরে অবস্থিত এক অসীম মাতৃশক্তি (মহেশ্বরাদি দেবতা) আপনাকে কথা বলার শক্তি দিচ্ছেন। প্রতিটি বর্ণ বা শব্দকে শিবেরই একটি সজীব স্পন্দন হিসেবে গ্রহণ করুন এবং অনুভব করুন যে আপনি এই দিব্য শক্তির কোলেই নিরাপদে বাস করছেন। এই অনুভূতি নিয়ে সাধারণ কাজকর্ম চালিয়ে যান।
A contemplative reading in the spirit of the Kashmir Shaivism (Trika / non-dual Tantra) tradition — an aid to reflection, not a substitute for a living teacher or the classical commentaries.