Sutra 3.22
অনুবাদ
প্রাণের গতিবিধিতে বা শ্বাস-প্রশ্বাসের ক্রিয়ায় সমদর্শন লাভ হয়।
অর্থ
এই সূত্রটি অনুপায় বা অনাভোপায়ের গূঢ় তত্ত্বের ইঙ্গিত বহন করে, যেখানে সাধকের কোনো বিশেষ কৌশল বা জোরপূর্বক প্রচেষ্টার প্রয়োজন হয় না। এখানে 'প্রাণ' কেবল শারীরিক শ্বাস নয়, বরং চৈতন্যের সেই স্বতঃস্ফূর্ত স্পন্দন যা জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে প্রবাহিত হচ্ছে। যখন সাধক এই প্রাণশক্তির স্বাভাবিক গতিবিধিকে কোনো রূপ বিচার-বিশ্লেষণ বা নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই শুদ্ধ সাক্ষীভাবে পর্যবেক্ষণ করেন, তখন মনের দ্বৈতবোধ বিলীন হয়ে যায়। শ্বাসের আসা-যাওয়া এবং চিত্তের ওঠা-নামার মধ্যে যে অবিচ্ছিন্ন একত্ব বিদ্যমান, তাই হলো প্রকৃত যোগ।
'সমদর্শন' বলতে বোঝানো হয়েছে সেই অবস্থা যেখানে দ্রষ্টা ও দৃশ্যের মধ্যে কোনো বিভাজন অবশিষ্ট থাকে না। সাধারণ মানুষ শ্বাসকে নিজের থেকে পৃথক একটি শারীরিক প্রক্রিয়া মনে করে, কিন্তু ত্রিক দর্শনে শ্বাসই হলো শিবের স্পন্দন। যখন এই বোধ দৃঢ় হয় যে প্রাণের প্রতিটি গতিবিধি স্বয়ং পরমশিবের লীলা, তখন সাধারণ শ্বাস-প্রশ্বাসই হয়ে ওঠে সমাধির দ্বার। এখানে কোনো নতুন অবস্থা অর্জন করতে হয় না, কেবল বর্তমান মুহূর্তের প্রাণশক্তিতে পূর্ণ সচেতনতা জাগ্রত করলেই অদ্বৈত দর্শন স্বতঃস্ফূর্তভাবে প্রকাশ পায়।
ধ্যান
আজ সারাদিন মাঝে মাঝে কাজ থামিয়ে কেবল এক মুহূর্তের জন্য নিজের শ্বাস-প্রশ্বাসের দিকে তাকান, কিন্তু কোনোভাবেই তা নিয়ন্ত্রণ বা পরিবর্তন করার চেষ্টা করবেন না। মনে মনে এই বোধটি জাগ্রত রাখুন যে এই শ্বাস আপনি নিচ্ছেন না, বরং মহাজাগতিক চৈতন্য বা শিবশক্তি আপনার মাধ্যমে স্বতঃস্ফূর্তভাবে প্রবাহিত হচ্ছে। শ্বাসের ভেতরে এবং বাইরে যাওয়ার মাঝখানের সেই নিস্তব্ধ মুহূর্তটিতে লক্ষ্য করুন যে দ্রষ্টা এবং শ্বাস একই সত্তা; এই সরল পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে দিনের ব্যস্ততার মধ্যেও অবিচলিত সমদর্শন বজায় রাখার চেষ্টা করুন।
A contemplative reading in the spirit of the Kashmir Shaivism (Trika / non-dual Tantra) tradition — an aid to reflection, not a substitute for a living teacher or the classical commentaries.