Sutra 3.23
অনুবাদ
মধ্যদেশে অর্থাৎ চেতনার কেন্দ্রে অবস্থান করলে নিম্নতর স্তরের জন্ম বা প্রসব ঘটে।
তাৎপর্য
এই সূত্রটি তৃতীয় উপায় বা আণবোপায়ের গভীরতম রহস্য উন্মোচন করে। সাধারণত আমরা মনে করি যে, মনকে স্থির করে মধ্যবর্তী অবস্থায় থাকলে কেবল শান্তি পাওয়া যায়, কিন্তু কাশ্মীর শৈবমতে 'মধ্য' বা কেন্দ্র হলো সৃষ্টির বীজভূমি। যখন সাধক ইচ্ছাশক্তি ও জ্ঞানশক্তির সংযোগস্থলে, অর্থাৎ হৃদয়কমলে বা চেতনার ঠিক মাঝখানে দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত হন, তখন সেখান থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে নতুন নতুন চিন্তা, ভাবনা এবং কর্মের উদ্ভব হয়। এটি কোনো সাধারণ মানসিক বিক্ষিপ্ততা নয়, বরং শিবের সৃজনশীল শক্তির প্রকাশ।
এখানে 'অবরঃ প্রসবঃ' বলতে বোঝানো হয়েছে যে, এই কেন্দ্র থেকে যে সৃষ্টি হয় তা বাহ্যিক জগতের তুলনায় অধিকতর সূক্ষ্ম এবং শক্তিশালী। সাধারণ মানুষ বাইরের বস্তু দেখে ভাবে, কিন্তু সিদ্ধযোগী নিজের অভ্যন্তরীণ কেন্দ্র থেকেই বিশ্বকে প্রসব করেন। এই অবস্থায় সাধক বুঝতে পারেন যে, তিনি জগতের দর্শক নন, বরং তিনিই সেই মধ্যবিন্দু যেখান থেকে সমস্ত নাম-রূপের বিকাশ ঘটছে। এটিই প্রকৃত স্বাতন্ত্র্য বা স্বাধীনতার অনুভূতি, যেখানে সীমিত জীব নিজেকে অসীম সৃজনশীল শক্তির আধার হিসেবে চিনতে সক্ষম হন।
চিন্তন
আজ সারাদিন যখনই কোনো সিদ্ধান্ত নেবেন বা কোনো নতুন কাজ শুরু করবেন, তখন বাহ্যিক পরিস্থিতির ওপর নির্ভর না করে মুহূর্তের জন্য থামুন এবং নিজের হৃদয়কমল বা চেতনার ঠিক মাঝখানে মনোযোগ দিন। অনুভব করুন যে, আপনার পরবর্তী কথা বা কাজটি বাইরে থেকে আসছে না, বরং আপনার অভ্যন্তরীণ সেই নিস্তব্ধ কেন্দ্র থেকেই তা জন্ম নিচ্ছে। এই অনুভূতির সাথে কাজটি সম্পন্ন করুন এবং লক্ষ্য করুন কীভাবে আপনার ক্রিয়ার মধ্যে একটি নতুন ধরনের স্বচ্ছতা ও শক্তি প্রবেশ করে।
A contemplative reading in the spirit of the Kashmir Shaivism (Trika / non-dual Tantra) tradition — an aid to reflection, not a substitute for a living teacher or the classical commentaries.