Sutra 3.30
অনুবাদ
তাঁর নিজস্ব শক্তির বিস্তার বা প্রাচুর্যই হল এই বিশ্ব।
অর্থ
এই সূত্রটি কাশ্মীর শৈবতন্ত্রের মূল সত্যটি উন্মোচন করে: বিশ্বব্রহ্মাণ্ড কোনো পৃথক বা বাহ্যিক বস্তু নয়, বরং এটি পরম শিবের অন্তর্নিহিত শক্তির (শক্তি) এক গতিশীল বিকাশ মাত্র। 'প্রচয়' শব্দটি কেবল সৃষ্টিকে বোঝায় না, বরং শক্তির এক অফুরন্ত উৎস থেকে নিরন্তর প্রবাহিত হওয়া এবং ছড়িয়ে পড়াকে নির্দেশ করে। যেমন সূর্য থেকে আলো আলাদা কোনো বস্তু নয়, বরং সূর্যেরই বিস্তার, তেমনি এই নাম-রূপের জগৎ শিবের চেতনা-শক্তির থেকে পৃথক কিছু নয়।
যখন সাধক এই তত্ত্বটি উপলব্ধি করেন, তখন দ্বৈতবাদের ভ্রম দূরীভূত হয়। সাধারণ মানুষ বিশ্বকে নিজের থেকে আলাদা একটি জড় বস্তু হিসেবে দেখে, কিন্তু ত্রিকা দর্শনে বিশ্ব হল শিবের লীলা বা খেলা। 'অস্য' শব্দটি এখানে শিবকে নির্দেশ করে; অর্থাৎ, এই বিশাল মহাজাগতিক নাটক তাঁর নিজস্ব স্বাতন্ত্র্য শক্তির (স্বাতন্ত্র্য শক্তি) প্রকাশ। কোনো অভাব বা সীমাবদ্ধতা থেকে নয়, বরং পূর্ণতার আনন্দ থেকেই এই শক্তির প্রচয় ঘটেছে, তাই বিশ্ব প্রকৃতপক্ষে পবিত্র এবং চৈতন্যময়।
ধ্যান
আজ দিনের বেলা যখনই আপনার দৃষ্টি কোনো বাহ্যিক বস্তুর, কোনো শব্দের কিংবা কোনো অনুভূতির ওপর পড়বে, তখন ক্ষণিকের জন্য থামুন। মনে মনে প্রশ্ন করুন: 'এই দৃশ্যটি কোথা থেকে আসছে?' কল্পনা করুন যে আপনার নিজের অন্তরের অসীম চেতনা থেকে একটি আলোর রশ্মি বেরিয়ে এসে এই বস্তুটির রূপ ধারণ করেছে। মনে রাখবেন, আপনি এই বিশ্বের দর্শক নন, বরং আপনিই সেই শক্তি যার বিস্তার এই বিশ্বরূপে ফুটে উঠছে। প্রতিটি মুহূর্তে এই অনুভূতি জাগিয়ে রাখুন যে, বাইরের জগৎ আপনারই অন্তরের শক্তির এক বিরাট প্রতিফলন।
A contemplative reading in the spirit of the Kashmir Shaivism (Trika / non-dual Tantra) tradition — an aid to reflection, not a substitute for a living teacher or the classical commentaries.