Sutra 3.32
অনুবাদ
যদিও সেই (বাহ্যিক ক্রিয়াকলাপের) প্রবৃত্তি বা গতিশীলতা থাকে, তবুও জ্ঞাতা-ভাব বা দ্রষ্টৃ-চৈতন্যের কারণে তার কোনো নিরাস বা প্রত্যাখ্যান ঘটে না।
অর্থ
কাশ্মীর শৈবধর্মের তৃতীয় উপায় বা অনবোপায়ের এই সূত্রটি সাধকের জন্য একটি গভীর মুক্তির ইঙ্গিত বহন করে। সাধারণত আমরা মনে করি যে, আধ্যাত্মিক উন্নতির জন্য বাহ্যিক জগতের কর্মকাণ্ড, ইন্দ্রিয়ের বিচরণ বা মনের চঞ্চলতাকে সম্পূর্ণভাবে দমন বা বর্জন করতে হবে। কিন্তু এই সূত্রটি ঘোষণা করছে যে, যখন সাধক নিজেকে শুদ্ধ 'সংবেত্তা' বা সাক্ষী-চৈতন্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন, তখন বাহ্যিক ক্রিয়াগুলি স্বতঃস্ফূর্তভাবে চলতে থাকলেও তারা আর বন্ধনের কারণ হয় না। জগতের খেলা থামে না, কিন্তু সেই খেলার প্রতি সাধকের আসক্তি বা মোহ তিরোহিত হয়।
এখানে 'অনিরাস' শব্দটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এর অর্থ হলো, বাস্তবতাকে অস্বীকার করা বা পলায়ন করা নয়। যিনি জানেন যে তিনি নিজেই সেই অখণ্ড চৈতন্য, যার মধ্যে সমস্ত বিশ্বনাট্য সংঘটিত হচ্ছে, তার পক্ষে কর্মকে ত্যাগ করার প্রয়োজন পড়ে না। যেমন নদীর স্রোত বয়ে চলে কিন্তু নদীর তীর স্থির থাকে, তেমনি ইন্দ্রিয় ও মন নিজস্ব গতিতে চললেও সাধকের অন্তরস্থ দ্রষ্টৃ-ভাব অবিচলিত থাকে। এই অবস্থাতেই কর্ম যোগে পরিণত হয় এবং সংসারই মুক্তির ক্ষেত্রে রূপান্তরিত হয়।
ধ্যান
আজ সারাদিন যখনই আপনি কোনো কাজ করবেন বা ইন্দ্রিয়ের মাধ্যমে কোনো অনুভূতি লাভ করবেন, তখন কাজটি বন্ধ করার চেষ্টা না করে কেবল এই প্রশ্নটি মনে আনুন: 'যে এই কাজটি দেখছে বা অনুভব করছে, সে কি?' কাজের গতিশীলতাকে প্রবাহিত হতে দিন, কিন্তু আপনার সচেতনতাকে সেই গতিশীলতার মধ্যে না হারিয়ে, পটভূমির মতো স্থির 'দ্রষ্টা' হিসেবে ধরে রাখুন। অনুভব করুন যে, আপনার চৈতন্যই সেই পবিত্র মঞ্চ, যেখানে সমস্ত নাট্য চলছে, কিন্তু মঞ্চ নিজে কখনো নাটকের দ্বারা স্পৃষ্ট হয় না।
A contemplative reading in the spirit of the Kashmir Shaivism (Trika / non-dual Tantra) tradition — an aid to reflection, not a substitute for a living teacher or the classical commentaries.