Sutra 3.33
অনুবাদ
সুখ ও দুঃখের বাহিরে চিন্তা করা।
অর্থ
এই সূত্রটি অনুপায় বা অনাভোপায়ের গভীরতম অবস্থাকে নির্দেশ করে, যেখানে সাধক আর সুখ বা দুঃখের অভিজ্ঞতার মধ্যে আটকে থাকেন না। সাধারণ মানুষ সুখ এলে তা গ্রহণ করেন এবং দুঃখ এলে তা বর্জন করতে চান, ফলে তারা এই দ্বন্দ্বের মধ্যেই আবদ্ধ থাকেন। কিন্তু এখানে বলা হয়েছে যে, প্রকৃত চেতনা বা শিবতত্ত্ব এই সুখ-দুঃখের জোড়ার ঠিক বাইরে অবস্থিত। যখন মন এই বিপরীত ভাবাবেগগুলোর প্রতিক্রিয়া থেকে সরে এসে তাদের সাক্ষী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়, তখনই প্রকৃত মুক্তির স্বাদ পাওয়া যায়।
কাশ্মীর শৈবমতে সুখ ও দুঃখ উভয়ই চিত্তের কম্পন বা স্পন্দন মাত্র, যা মায়াশক্তির খেলা। যখন সাধক বুঝতে পারেন যে এই অনুভূতিগুলো তাঁর প্রকৃত স্বরূপ নয়, বরং তাঁর সামনে দিয়ে বয়ে চলা মেঘের মতো ক্ষণস্থায়ী ঘটনা, তখন তিনি 'বহির্মমনন' বা বাইরের চিন্তায় লীন হন। এখানে 'বাহির' বলতে শারীরিক বাইরের জগৎ বোঝানো হয়নি, বরং বোঝানো হয়েছে সুখ-দুঃখের সীমানা অতিক্রম করে যে শুদ্ধ সচেতনতা বিদ্যমান, তার দিকে মনকে ফিরিয়ে নেওয়া। এটি কোনো দমন বা নিগ্রহ নয়, বরং এক গভীর উপলব্ধি যে আমি এই অনুভূতিগুলো নই, আমি তাদের দ্রষ্টা।
ধ্যান
দিনের বেলা যখনই কোনো তীব্র সুখ বা কষ্টদায়ক পরিস্থিতির সম্মুখীন হবেন, তখনই ক্ষণিকের জন্য থামুন এবং নিজেকে জিজ্ঞাসা করুন, "যে এই সুখ বা দুঃখ অনুভব করছে, সে কি এই অনুভূতির মধ্যে বন্দী?" নিজের মনকে সেই অনুভূতির ঢেউ থেকে সরিয়ে নিয়ে এমন এক নিস্তব্ধ স্থানে নিয়ে যান যেখানে কোনো নাচ নেই, কেবল দর্শক রয়েছেন। মনে মনে বলুন, "এই আবেগ আসছে এবং যাচ্ছে, কিন্তু আমি তার বাইরে, আমি সেই অবিচলিত আকাশ যার কোলে এই মেঘগুলো ভাসছে।" এইভাবে প্রতিটি আবেগকে আপনার প্রকৃত স্বরূপ থেকে আলাদা করে দেখার অভ্যাস গড়ে তুলুন।
A contemplative reading in the spirit of the Kashmir Shaivism (Trika / non-dual Tantra) tradition — an aid to reflection, not a substitute for a living teacher or the classical commentaries.