Sutra 3.36
অনুবাদ
ভেদ বা পার্থক্যকে অস্বীকার করলে বা অতিক্রম করলে, সৃষ্টির অন্য একটি স্তরে কর্মের স্বরূপ প্রকাশ পায়।
অর্থ
এই সূত্রটি অনুপায় বা অনাভোপায়ের গভীরতম রহস্য উন্মোচন করে, যেখানে সাধক যখন মনে করেন যে তিনি শিব থেকে পৃথক বা ভিন্ন, সেই ভ্রান্ত ধারণাটি যখন সম্পূর্ণভাবে বিলীন হয়ে যায়, তখনই প্রকৃত মুক্তি ঘটে। সাধারণত আমরা জগতকে বাহ্যিক বস্তু হিসেবে দেখি এবং নিজেকে তার থেকে আলাদা মনে করি; কিন্তু যখন এই 'ভেদ তিরস্কার' বা পার্থক্যের অবসান ঘটে, তখন জগৎ আর কোনো পৃথক সত্তা থাকে না, বরং তা শিবের চৈতন্যেরই এক অনির্বচনীয় খেলা বা সৃষ্টি হিসেবে প্রতিভাত হয়।
এখানে 'সর্গান্তর' বলতে বোঝানো হয়েছে যে, দ্বৈতবোধ দূর হলে জগৎ ধ্বংস হয় না, বরং তার অস্তিত্বের ধরন পরিবর্তিত হয়। এটি আর কোনো বাধা বা বন্ধনকারী কর্ম নয়, বরং তা স্বাধীন চৈতন্যের স্বতঃস্ফূর্ত ও আনন্দময় প্রকাশে রূপান্তরিত হয়। যে কর্ম আগে ভোগ বা বন্ধনের কারণ ছিল, পার্থক্যবোধ লোপ পাওয়ার পর তাই মুক্তির মাধ্যম বা লীলা হয়ে ওঠে, যেখানে কর্তা ও কর্মের মধ্যে কোনো বিভাজন অবশিষ্ট থাকে না।
চিন্তন
দিনের বেলা যখনই কোনো ব্যক্তি, পরিস্থিতি বা অনুভূতির সাথে আপনার মনে সংঘাত বা বিচ্ছিন্নতার অনুভূতি জাগবে, তখনই থামুন এবং নিজেেকে জিজ্ঞাসা করুন: 'এই পার্থক্যটি কি বাস্তব, নাকি এটি আমার মনের একটি সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি?' এই প্রশ্নের মাধ্যমে সেই বিভাজক প্রাচীরটি ভেঙে ফেলার চেষ্টা করুন এবং অনুভব করুন যে যে শক্তি আপনার মধ্যে আছে, সেই একই শক্তি সামনের বস্তুটিতেও স্পন্দিত হচ্ছে; এই ঐক্যবোধেই আপনার প্রতিটি কাজ স্বাভাবিক ও সহজ হয়ে উঠবে।
A contemplative reading in the spirit of the Kashmir Shaivism (Trika / non-dual Tantra) tradition — an aid to reflection, not a substitute for a living teacher or the classical commentaries.