Sutra 3.39
অনুবাদ
যেমন চিত্তের স্থিতি (স্থির অবস্থা), তেমনি শরীর ও ইন্দ্রিয়গুলিরও বাহ্য বিষয়গুলিতে সেইরূপ অবস্থান হয়।
অর্থ
এই সূত্রটি ত্রিতীয় উপায় বা আণবোপায়ের গভীরতম দিকটি উন্মোচন করে, যেখানে মনের অবস্থা এবং শারীরিক প্রকাশের মধ্যে কোনো বিভাজন নেই। কাশ্মীর শৈবমতে চিত্ত বা চেতনা হল মূল স্পন্দন; যখন এই চিত্ত কোনো একটি নির্দিষ্ট অবস্থায় বা ভাবে স্থির হয়ে যায়, তখন শরীর এবং ইন্দ্রিয়গুলি স্বতঃস্ফূর্তভাবে সেই অভ্যন্তরীণ স্থিতির প্রতিফলন হিসেবে বাহ্যিক জগতে সেই একই ছাঁচে গড়ে ওঠে। এটি কেবল মানসিক প্রভাব নয়, বরং এটি এই সত্যের ইঙ্গিত যে শরীর হল চিত্তেরই ঘনীভূত রূপ; তাই চিত্ত যেখানে স্থিত হয়, শরীর সেখানেই তার কার্যক্রম পরিচালনা করে।
যদি চিত্ত শিবতত্ত্বে বা পূর্ণতার মধ্যে স্থির থাকে, তবে শরীর ও ইন্দ্রিয়গুলি বাহ্যিক জগতে এমনভাবে আচরণ করবে যেন তারা সেই পূর্ণতারই প্রকাশ। বিপরীতভাবে, যদি চিত্ত সীমাবদ্ধতা বা ভয়ে আবদ্ধ থাকে, তবে শারীরিক ক্রিয়াকলাপও সেই সংকীর্ণতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকে যাবে। এই সূত্র আমাদের শেখায় যে বাহ্যিক জগতের সাথে আমাদের সম্পর্ক পরিবর্তন করতে হলে কেবল শারীরিক ক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করলেই হবে না, বরং চিত্তের মূল অবস্থান বা 'স্থিতি' পরিবর্তন করতে হবে। যখন চিত্ত স্বরূপে প্রতিষ্ঠিত হয়, তখন সমস্ত বাহ্যিক কর্ম স্বতঃস্ফূর্তভাবে মুক্ত ও পবিত্র হয়ে ওঠে।
চিন্তন
আজ দিনের বেলায় যখনই আপনি কোনো শারীরিক কাজ করবেন বা কারো সাথে কথা বলবেন, তখন এক মুহূর্তের জন্য থামুন এবং লক্ষ্য করুন আপনার মনের বর্তমান অবস্থাটি কী। দেখুন আপনার চিত্ত কি উদ্বেগে ছুটছে নাকি শান্তিতে স্থির আছে? এরপর খেয়াল করুন কীভাবে সেই মানসিক অবস্থাটি আপনার শরীরের ভঙ্গি, আপনার কণ্ঠস্বর এবং আপনার ইন্দ্রিয়গুলির কার্যপ্রণালীকে নিয়ন্ত্রণ করছে। এই উপলব্ধি নিয়ে কাজ করুন যে, শরীরকে শিথিল বা সুস্থ করতে হলে আপনাকে প্রথমে চিত্তকে তার স্বাভাবিক প্রশান্ত অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে হবে; মনে স্থিতি এনে দেখুন কীভাবে শরীর নিজে থেকেই সেই স্থিতির প্রতিধ্বনি তোলে।
A contemplative reading in the spirit of the Kashmir Shaivism (Trika / non-dual Tantra) tradition — an aid to reflection, not a substitute for a living teacher or the classical commentaries.