Sutra 3.40
অনুবাদ
ইচ্ছা বা আকাঙ্ক্ষা থেকেই বাহ্যিক জগতের প্রতি মনের গতি বা প্রবাহ ঘটে, আর এই প্রবাহের বিরতি বা মাঝখানের যে অবস্থা তাই হলো সন্ধি।
অর্থ
এই সূত্রটি আমাদের মনের কার্যপ্রণালীর একটি মৌলিক সত্য উন্মোচন করে। যখন কোনো বিষয়ে তীব্র ইচ্ছা বা অভिलाষ জাগে, তখন চৈতন্য স্বভাবতই নিজের কেন্দ্র থেকে সরে গিয়ে বাইরের বস্তুর দিকে ধাবিত হয়। এই 'বহির্গতি' হলো সংসার বা দ্বৈতবাদের মূল কারণ, যেখানে আমরা নিজেকে ভুলে কেবল বাঞ্ছিত বস্তুর পেছনে ছুটে চলি। শিবসূত্র এখানে স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, এই ছুটে চলাটাই হলো আমাদের বন্ধনের শৃঙ্খল, কারণ এটি আমাদের অন্তরের পূর্ণতা থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়।
কিন্তু সূত্রের দ্বিতীয় অংশটি 'সন্ধি' শব্দের মাধ্যমে মুক্তির চাবিকাঠিটি প্রদান করে। দুটি ইচ্ছার মাঝখানে, অথবা একটি ইচ্ছার শেষ এবং পরবর্তী ইচ্ছার শুরুর মাঝখানে যে ক্ষণিকের নিস্তব্ধতা বা বিরতি থাকে, সেটাই হলো প্রকৃত সন্ধি। সাধারণ মানুষ এই ফাঁকটি লক্ষ্য করে না এবং এক ইচ্ছা থেকে অন্য ইচ্ছায় লাফিয়ে পড়ে, কিন্তু সাধক এই সন্ধিক্ষণেই শিবতত্ত্ব বা বিশুদ্ধ চৈতন্যের সাক্ষাৎ পান। এই সন্ধিই হলো সেই দরজা, যার মধ্য দিয়ে বাহ্যিক প্রবাহকে থামিয়ে অভ্যন্তরীণ শান্তিতে প্রবেশ করা যায়।
ধ্যান
আজ সারাদিন যখনই কোনো কিছুর প্রতি তীব্র ইচ্ছা বা আকাঙ্ক্ষা মনে উঠবে, তখন সাথে সাথে সেই বস্তুর দিকে না ছুটে, ইচ্ছাটি উঠে আসার পর এবং আপনার প্রতিক্রিয়া শুরু করার আগে যে সামান্য সময়ের ব্যবধান বা নিস্তব্ধতাটি রয়েছে, শুধু সেদিকেই সজাগ দৃষ্টি রাখুন। সেই ক্ষণিকের ফাঁকটিতেই আপনি আপনার প্রকৃত স্বরূপকে খুঁজে পাবেন।
A contemplative reading in the spirit of the Kashmir Shaivism (Trika / non-dual Tantra) tradition — an aid to reflection, not a substitute for a living teacher or the classical commentaries.